Skip to content
Home » শেখ রাসেল আমাদের বন্ধু রচনা (800)শব্দের।শেখ রাসেল রচনা

শেখ রাসেল আমাদের বন্ধু রচনা (800)শব্দের।শেখ রাসেল রচনা

শেখ রাসেল আমাদের বন্ধু রচনা

শেখ রাসেল হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কনিষ্ঠ পুত্র । 1975 সালের  15 ই আগস্ট কাল রাতে দেশী এবং বিদেশী দানবেরা মিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারকে হত্যা করেন । শুধু ভেসে যায় বিদেশে থাকা দুই মেয়ে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেল কেও বাদ দেয়নি সেদিন তাকে মেরে ফেলে দেশি এবং বিদেশি দানবেরা । তাইতো শেখ রাসেলকে নিয়ে বইয়ের পাতা ও তার জীবনকাহিনী লেখা হয়েছে । তাকে নিয়ে লেখা  হয়েছে রচনা । আজকে আমরা আমাদের পোস্টের মাধ্যমে শেখ রাসেলকে নিয়ে সেই রচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো । আশা করছি আপনারা যারা শেখ রাসেলকে নিয়ে অনলাইনে রচনা খোঁজাখুঁজি করতেছেন তারা আমাদের এই পোস্টটি থেকে উপকৃত হতে পারবেন । তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক শেখ রাসেলকে নিয়ে রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত ।

শেখ রাসেল এর পরিচয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন 1964 সালের 18 অক্টোবর । তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী । তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে  বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে  তার জন্ম হয় । তারা ছিলেন তিন ভাই শেখ জামাল, শেখ কামাল এবং শেখ রাসেল । শেখ রাসেল এর আগে বসবাস করত গোপালগঞ্জ জেলায় । তার পিতার নাম হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতার নাম হচ্ছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা । তার দুই বোন ছিলেন শেখ রেহেনা এবং শেখ হাসিনা । শেখ হাসিনা বর্তমান বাংলাদেশ এর প্রাইম মিনিস্টার ।

শেখ রাসেলকে তার পরিবারের সকল সদস্য খুবই ভালবাসতেন পরিবারের ছোট ছেলে হয় । 1975 সালের 15 ই আগস্ট দেশি এবং বিদেশি চক্র মিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সকল সদস্য কে হত্যা করে ছোট ছেলে শেখ রাসেল কেও তারা বেঁচে থাকতে দেয়নি । তবে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে এই দুই বোন ভেসে যায় । আশা করছি আপনারা আমাদের পুষ্টি থেকে শেখ রাসেলের জীবন কাহিনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন ।

শেখ রাসেলের জন্মদিন

শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন 1964 সালের 18 অক্টোবর

কত বছর বয়সে শেখ রাসেল নিহত হয়

10 বছর বয়সে শেখ রাসেল নিহত হয় ।1975 সালের 15 ই আগস্ট শেখ রাসেলকে হত্যা করা হয় ।

শেখ রাসেল দিবস কবে

18 অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস পালন করা হয়

শেখ রাসেল কারাগারকে কি বলতো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের বেশিরভাগ কাটিয়েছেন জেলেছয় দফা আন্দোলনের দাবি তোলার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বারবার জেলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেল ছিলেন ছোট  শিশু পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে এ বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও শেখ রাসেলের কাছে ছিল এটি অনেক ভয়াবহ এবং অভিজ্ঞতা কারণ তিনি অনেক ছোট ছিলেনকারণ তখন শেখ রাসেল ছিলেন দুধের শিশু18 মাসের ছোট্ট শিশুটি মনে করেছিলেন তাঁর বাবার বাড়ি যেন কারাগারে।তেমনই একটি দিন ১৯৬৬ সালের ১৫ জুন। রাসেল গিয়েছে বাবাকে দেখতে। বাবা বঙ্গবন্ধু সেই বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসে না, যে পর্যন্ত আমাকে না দেখে। দেখলাম দূর থেকে পূর্বের মতোই ‘আব্বা আব্বা’ বলে চিৎকার করছে।

জেল গেট দিয়ে একটা মালবোঝাই ট্রাক ঢুকছিল। আমি তাই জানালায় দাঁড়াইয়া ওকে আদর করলাম। একটু পরেই ভিতরে যেতেই রাসেল আমার গলা ধরে হেসে দিল। ওরা বলল, আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে ‘‘আব্বার বাড়ি’’। এখন ওর ধারণা হয়েছে এটা ওর আব্বার বাড়ি। যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয়।’পরের মাসে ১১ জুলাই বঙ্গবন্ধু লিখছেন, গেট পার হয়েও রাসেল হাত তুলে আমার কাছ থেকে বিদায় নিল। বোধ হয় বুঝে গিয়েছে এটা ওর বাবার বাড়ি, জীবনভর এখানেই থাকবে।

শেখ রাসেল কেন আমাদের বন্ধু?

শেখ রাসেল কেন আমাদের বন্ধু এবিষয়ে জানতে হলে অবশ্যই আমাদের শেখ রাসেলের শৈশবকালে যেতে হবে । কারণ শেখ রাসেল 10 বছর বয়সে মারা গেলেও সে সে সময়ে অনেকটা বুঝতে শেখে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায়  টমি নামের একটি কুকুর ছিল । সেই কুকুরের সাথে শেখ রাসেলের সারাদিন খেলত । একদিন খেলার সময় সেই কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে লাগলো তখন শেখ রাসেল মনে করলো কুকুরটি মনে হয় তাকে বকছে । তখন শেখ রাসেল তার বোন শেখ রেহানা কাছে এসে কাঁদতে লাগে । শেখ রাসেল মাছ ধরার  প্রচুর শখ ছিল ।

সে মাছ ধরতে খুব ভালোবাসতো । মাছ ধরার পর সেই মাছ আবার সে পুকুরে ফেলে দিত । এভাবেই শেখ রাসেল মাছ ধরার মজা করত । বর্তমানে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এর জন্ম হলে শেখ রাসেল তাকে নিয়ে সারাটা দিন  খেলতো ।  তার স্বভাব ছিল অত্যন্ত দুরন্ত প্রকৃতির  । শেখ রাসেলের  একটি বাইসাইকেল ছিল। মানুষ সহ পশুপাখি সবার প্রতি তার  অগাধ ভালোবাসা ছিল ।সবার কাছে যেত সবার সাথে  মিশে সব মানুষকে সম্মান করতো ।এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই শেখ রাসেল আমাদের পরম বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

উপসংহারঃ শেখ রাসেল বাঙালি জাতির  আদর্শ । তারমধ্যে বাঙালি জাতি খুঁজে পায় ছেলেবেলার শৈশবকে । শেখ রাসেল এর মধ্য দিয়ে বেঁচে থেকে বাঙালি জাতির শিশুকাল । অন্যদিকে তার নির্মম মৃত্যুর কাহিনী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় দেশের নিষ্ঠুর  ইতিহাসের কথা । তাই শেখ রাসেলের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য গঠন করা হয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র , শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ এবং স্কেটিং স্টেডিয়াম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *